Breaking News
Home / চলচ্চিত্র / বাংলা চলচ্চিত্রে মেধাবী নির্মাতাদের অবমূল্যায়ণ!

বাংলা চলচ্চিত্রে মেধাবী নির্মাতাদের অবমূল্যায়ণ!

সেদিন অনুষ্ঠান শুরুর আগে কয়েকজন বন্ধু মিলে এই সময়ে আমাদের সিনেমা নিয়ে গল্প করছিলাম। এক সাংবাদিক বন্ধু তার অপর বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে আমার নামের আগে বিশেষণ যোগ করলেন মেধাবী নির্মাতা। একটু অস্বস্তি নিয়ে বললাম মেধাবী নয়,স্ট্রাগলিং ফিল্মমেকার। আমি বা আমরা যারা ইন্ডাস্ট্রির বাইরে নিজেদের মতো গল্প বলা বা ভিন্নমত প্রকাশের চেষ্টা করি তাদের জন্য ‘যোদ্ধা চলচ্চিত্রনির্মাতা’ শব্দটি যুত্সই।কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্রে মেধাবী নির্মাতারা সঠিক ভাবে মুলায়িত হচ্ছে না কেন?

বাংলা চলচ্চিত্র এর ছবির ফলাফল

অনলাইন ডেস্ক ঃ আমাদের দেশ থেকে অনেকেই চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়তে গেছেন পুনে ফিল্ম ইনস্টিটিউটে। চলচ্চিত্র পরিচালনা বা সম্পাদনার মতো বিষয় পড়ে এসেছেন। তারপর দেশে এসে তারা কিছুই করতে পারেন নাই। সিনেমা না বানাতে পেরে কেউ কেউ বিজ্ঞাপন নির্মাতা হয়ে গেছেন। কেউ অন্য কোন পেশায় ব্যস্ত হয়েছেন। জীবন ধারণ করার জন্য সবাইকেই টাকা কামাতে হয়। অথচ এই রকম হওয়ার কথা ছিল না। সিনেমায় পড়াশোনা করা লোকের উপরই টাকা বিনিয়োগ করা স্বাভাবিক ছিল। বাস্তব কথা হল, আমাদের দেশে যারা সিনেমায় বিনিয়োগ করেন, তারা শিক্ষিত লোকদের এড়িয়ে চলেন। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে তারা কাজ না জানা লোকদের উপর নির্ভর করেন। কিন্তু সিনেমায় পড়াশোনা করে আসা লোকদের দুই পয়সা দিয়েও মূল্যায়ন করেন না। এ কারণেই আমাদের সিনেমা জগতকে একটা লম্বা সময় ‘অশ্লীল যুগ’ পার করতে হয়েছে। ইউটিউবে ‘বাংলা সিনেমা’ লিখে সার্চ দিলে যে সব ভিডিও আসে, তা দেখে আমাদের দেশ ও সিনেমা সম্পর্কে যে কোন বিদেশী জঘন্য ধারণা পোষণ করতে পারেন। এই একই কারণে আমাদের অনেক মেধাবী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মাত্র ২ বা ৪টি সিনেমা বানিয়েই জীবন পার করে দিতে হয়েছে। কেউ কেউ সেই সুযোগও পায়নি। চলচ্চিত্রে সরকারি অনুদান না থাকলে অনেকে হয়তো কোন দিনও একটা সিনেমাও বানাতে পারতেন না। আমাদের দেশে যারা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়, তাদের কেউ গনায় ধরে না। জাতীয় পুরস্কার পেলে কোন প্রযোজক বলে না, আসেন, আপনার পরবর্তী সিনেমায় আমি বিনিয়োগ করব। বরং এমন শুনেছি, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলে তার কপাল পোড়ে। তার কপালে আর প্রযোজক জোটে না। অথচ হওয়ার কথা ছিল উল্টোটা। সিনেমায় পড়াশোনা করে আসা মেধাবী নির্মাতার উপর বিনিয়োগ করা উচিত ছিল। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জেতা পরিচালকের বাড়িতে প্রযোজকের লাইন লাগা উচিত ছিল। হয় নাই, হবেও না। এ কারণেই আমাদের সিনেমা শিল্পে মেধাহীন মানুষের দৌরাত্ম থেকেই যাবে। কেন ???

লেখক ঃ শাহাজাদী খান, লন্ডন ফিল্ম একাডেমী, যুক্তরাজ্য।

About Shariful Islam Khan

Check Also

ভিডিও স্ট্রিমিং সাইট নেটফ্লিক্স ধূমপানকে জনপ্রিয় করছে?

চোখের সামনের দানবীয় বিলবোর্ডে ঠাঁই না মিললেও, ছোটো পর্দা বা স্ক্রিন থেকে বিদায় বলা যায়নি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *