Breaking News
Home / চলচ্চিত্র / সালমান শাহ বাংলা সিনেমার এক কিংবদন্তীর নাম

সালমান শাহ বাংলা সিনেমার এক কিংবদন্তীর নাম

Image may contain: 1 person

প্রয়াত সালমান শাহ বাংলা সিনেমায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে থেকেও নেই। যার যাত্রা শুরু ‘আকাশ ছোঁয়া’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে টিভি নাটকে। এরপর দিন যত পেরিয়েছে, দর্শকমহলে তার জনপ্রিয়তা তত আকাশ ছোঁয়া হয়েছে। কিছুদিন পর তিনি সিনেমায় এলেন, অভিষেক হলো এক স্বপ্নের নায়কের মতো। যার জন্য ঢালিউডের কোটি দর্শক প্রতীক্ষায় ছিল অনেক দিন।

এই স্বপ্নের নায়কের নাম সালমান শাহ, যিনি বাংলা সিনেমার এভারেস্ট জয় করেছেন। তাইতো প্রস্থানের এত বছর পরও তিনি দর্শক হৃদয়ে আছেন সেই প্রথম দিনের মতোই।

শোবিজে সালমানের শুরুটা হয়েছিল ১৯৮৫ সালে ‘কথার কথা’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে অভিনয়ের মাধ্যমে। তিনি একটি গানে মাদকাসক্ত এক তরুণের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

Image may contain: 1 person

ছোট পর্দায় সালমান 

দেয়াল (১৯৮৫), সব পাখি ঘরে ফেরে (১৯৮৫), সৈকতে সারস (১৯৮৮) নাটকে অভিনয় করে বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন। টিভি নাটকে নিজস্ব স্বাক্ষর রেখে সালমান তখন আলোচিত নাম। তবে তার স্বপ্ন ছিল আরো বড় কিছু করার। মনের মধ্যে প্রবল আগ্রহ ছিল সিনেমার প্রতি।

১৯৯২ সালে পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান চলচ্চিত্রের জন্য নতুন মুখ খুঁজছিলেন। সে সময়ে ঢালিউডে নির্মাণের জন্য বলিউড থেকে তিনটি সিনেমার স্বত্ব কেনা হয়। একদিন সালমানের কথা হয় এই পরিচালকের সাথে। তারপর এক কফিশপে দেখা হয়, আলাপ হয়। প্রথম আলাপেই সোহান পছন্দ করেন সালমানকে।

Image may contain: 2 people, people smiling, people sitting, table and indoor

বলিউডের ‘সনম বেওয়াফা’র রিমেকে নায়ক হবার প্রস্তাব দিলে সালমান বলেন ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’ সিনেমাটি তার খুব প্রিয়। ইতোমধ্যে এই সিনেমা অনেকবার দেখা হয়ে গেছে, সিনেমার ডায়লগ, সিন, গান তার মুখস্ত। পরবর্তীতে এই সিনেমা দিয়েই তিনি বড় পর্দায় অভিষিক্ত হন।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ সারাদেশে মুক্তি পায়। প্রথম সপ্তাহেই সিনেমাপাড়ায় হইচই পড়ে যায়। দর্শকের মুখে মুখে তখন নতুন নায়কের নাম। বক্স অফিসে তুমুল ঝড় তোলা এই সিনেমা সালমানকে রাতারাতি এনে দেয় তারকাখ্যাতি।

এরপর সালমান মানেই নতুন কিছু৷ নতুন স্টাইল, নতুন মুড, নতুন চয়েস এবং আরো অনেক নতুনত্বে ভরপুর। সালমানের ব্যাক ব্রাশ চুল, কাউবয় হ্যাট, সানগ্লাস, লং কোট, হুডি শার্ট, মাথার স্কার্ফ খুব জনপ্রিয়তা পায়। তিনি পরিণত হন নতুন ফ্যাশন আইকনে। তরুণরা তাকে অনুকরণ করা শুরু করে। তরুণীরা আগ্রহে থাকে কখন তার নতুন সিনেমা আসবে। দলে বলে মানুষ তার ভিউকার্ড সংগ্রহ করে। তিনি হয়ে যান সবার নায়ক।

Image may contain: 1 person, eyeglasses and closeup

সিনেমার গল্প যাই হোক না কেন, সালমান তা ফুটিয়ে তোলেন তুমুল নান্দনিকতায়। রোমান্টিক, ফ্যামিলি ড্রামা, অ্যাকশন সব চরিত্রেই এক নতুন আবহ নিয়ে আসেন তিনি। তার অভিনয় বৈচিত্র‍্যে ঢালিউডে নতুন গতি আসে। একের পর এক সিনেমা তৈরি হতে থাকে। এফডিসির শুটিং ফ্লোরগুলোতে রাতদিন কাজ চলে। সিনেমাকর্মীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায় বহুগুণ। প্রেক্ষাগৃহ প্রতিদিন সরব থাকে। কাগজের বড় অংশজুড়ে থাকে শোবিজের খবর। এত কিছু মূলত সালমান শাহকে ঘিরেই আবর্তিত হয়।

সালমান অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ২৭ টি। প্রায় সবগুলোই সুপার হিট। সিনেমার গানগুলো এখনও বাজে চ্যানেল বা এফএম রেডিওগুলোতে৷ ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার ‘ও আমার বন্ধু গো’ গানটি তো চিরসবুজ। তরুণ-তরুণীরা এখনও একে অপরকে এই গান শুনিয়ে শিহরণে ভাসায়। সালমানের সেই লিপসিং তো মনে রাখার মতো। এছাড়া ‘সত্যের মৃত্যু নেই’ সিনেমার ‘চিঠি এলো জেলখানাতে’ গানটি দেখে যে কারো চোখে জল আসবে।

তার অভিনীত ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘স্বপ্নের নায়ক’, ‘মহামিলন’, ‘জীবন সংসার’, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘স্নেহ’, ‘প্রিয়জন’, ‘বিক্ষোভ’ সিনেমাগুলো সবচেয়ে বেশি আলোচিত।

সময়ের শ্রেষ্ঠ এই তারকার মৃত্যুর পর সারাদেশ ডুবে যায় শোকে। তখনকার পত্র পত্রিকা থেকে জানা যায় সালমানের শোক সইতে না পেরে অনেক তরুণী আত্মহত্যা করে। অনেকে ব্লেড দিয়ে নিজের হাত কেটে হাতে ‘সালমান’ নামটি লিখে। সে এক তীব্র শোকাবহ পরিবেশ, যা কেবল প্রত্যক্ষ করলেই বোঝা সম্ভব৷ এবং এটি কেবল সালমানের ক্ষেত্রেই ঘটেছে।

একজীবনে স্মার্ট ও সুদর্শন নায়ক সালমান শাহ নিজেকে উজাড় করেছিলেন সিনেমায়। তাইতো আজও নাগরিক মনে তিনি এক অনন্য তারকা, যে তারকা রয়ে যায় নীরবে, হৃদয়ে মম।

About Shariful Islam Khan

Check Also

অমিতাভের ছেলেমেয়ে ৩ হাজার কোটির সম্পত্তি সমান ভাগ পাবে

নিজের সব সম্পত্তি ছেলে অভিষেক বচ্চন ও মেয়ে শ্বেতা বচ্চন নন্দার মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *