Breaking News
Home / অন্যান্য / রিজেন্ট হাসপাতাল ও একজন মোঃ শাহেদ

রিজেন্ট হাসপাতাল ও একজন মোঃ শাহেদ

ঢাকা ঃ মানুষের জীবনে নানা ঘটনার জম্ম দেয় সেখান থেকে কিছু ঘটনা সময়ের কালস্রোতে ভুলে যাই আবার এমন কিছু ঘটনা যা ভুলে যাওয়া দুষ্কর, এমনই বেশকিছুদিন আগের ঘটনা একজন সন্তান তার বাবার লাশ নিতে অস্বীকার করলো, পরের ঘটনা সবার জানা রাজধানী ঢাকার উত্তরায় এক কোটিপতি বাবার মৃত্যুর পরে তার লাশ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম-এ দিয়ে দিতে বলেছেন দাফন করতে অনাগ্রহী সন্তান। রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে উঠে এসেছে সেই মর্মান্তিক কাহিনী।

তিনি জানান, জামালপুরের একজন সরকারি কর্মকর্তা হামিদ সরকার উত্তরা তিন নম্বর সেক্টরে তার নিজস্ব বাড়ি ছেলেদের নামে লিখে দেওয়ার পরে বিত্তশালী সন্তানরা তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। পরে তার স্থান হয় মসজিদের বারান্দায়। সেখানে হঠাৎ হামিদ সরকার অসুস্থ হয়ে পড়লে মসজিদের ইমাম রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদের শরণাপন্ন হন। মসজিদের বারান্দা থেকে ওই সরকারি কর্মকর্তাকে রিজেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।হাসপাতালে পনের দিন থাকার পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান হামিদ সরকার। তার মৃত্যুর সংবাদ জানাতে হামিদ সরকারের বড় ছেলেকে (পেশায় ডাক্তার) ফোন করেন মোহাম্মদ শাহেদ। প্রতিউত্তরে হামিদ সরকারের বড় ছেলে জানান, ‘তিনি জরুরি মিটিংয়ে আছেন এবং লাশটি যেন আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম-এ দিয়ে দেওয়া হয়।’

পরে মোহাম্মদ শাহেদের উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে সেই হতভাগ্য হামিদ সরকারের লাশ দাফন করা হয় বলেও তিনি জানান।
মোহাম্মদ শাহেদ প্রশ্ন রেখে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার মনে একটা প্রশ্ন, আমরা যারা বাবা-মাকে অসম্মান, অবহেলা করি- তারা কি একবারও ভেবে দেখি না যে, একদিন ঐ জায়গাটাতে আমরা নিজেরা গিয়ে দাঁড়াব। আজ আমি আমার বাবা মায়ের সাথে যে আচরণ করছি, তা যদি সেদিন আমার সন্তান আমার সাথে করে তবে? আজ আমাদের বাবা মায়েরা সহ্য করছে। কাল আমরা কি সহ্য করতে পারব?’

এরপরে আরও একটা ঘটনা, উত্তরা শিনশিন হাস্পাতালের নিয়মিত রোগী জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাজিন আহমেদকে মাত্র দুই হাজার টাকার জন্য আটকিয়ে রাখে দীর্ঘক্ষন, এর ফলে অসুস্থ অভিনেত্রী তাজিন আহমেদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

সেদিন সাংবাদিক অঞ্জন রায়ের অনুরধে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান জনাব মো: সাহেদ এর উদ্যোগে তার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালের নিজস্ব এ্যাম্বুলেন্সে এনে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক দেখে সেখানেই তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়।

সেদিন দুপুরে অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব নাসিম জানিয়েছিলেন,“তাজিন আহমেদের এজমার সমস্যা ছিল। হার্টের কোনো সমস্যা ছিল, এটা জানা ছিল না। আমরা চেষ্টা করছি তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছি।”
“তিনি (তাজিন আহমেদ) লাস্ট স্টেজে আছেন। এখন আমরা কিছু বলতে পারছি না। এখনো অফিশিয়ালি কিছু ডিক্লিয়ার (ঘোষণা) হয়নি। আমরা সর্বশেষ চেষ্টা চালানোর কথা বলছি। ২২০ ভোল্টে লাস্ট শকটা দিতে বলেছি। ইসিজি রিপোর্ট নীল আসছে।”
পরে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান জনাব মো: সাহেদ বলেন, আসলে দেখেন তাজিন আহমেদকে যখন আমাদের হাসপাতালে আনা হয় তখন তার অবস্থা খুব ভালো ছিলো না।
অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের দ্বায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডাঃ হাফিদ এর বরাত দিয়ে চেয়ারম্যান মোঃ শাহেদ জানান তাজিন আহমেদ এখন ‘ক্লিনিক্যালি ডেথ’। এক পর্যায়ে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।তাজিন আহমেদ অভিনয়ের পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।রিজেন্ট হাসপাতাল। অভিনেত্রী ও উপস্থাপক তাজিন আহমেদ এক সময় তাকে নিয়মিত দেখা যেত টেলিভিশন পর্দায়। অনেক বছর ধরে শোবিজে অনুপস্থিত তিনি।পারিবারিক ভাবে তাজিন স্বামী সংসার নিয়ে অসুখী ছিলেন। স্বামীর সাথে থাকতেন না আলাদা থাকতেন।এছাড়া ভাইবোন আত্মীয় স্বজন তেমন কারো সাথেই খুব যোগাযোগ ছিলনা। বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন মা চেক ডিসওনারের কেসে সাজা প্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কারাগারে বন্দী অবস্থায় ছিলেন। সেদিন তাজিনের লাশ দেখতে মিডিয়ার লোকজনে ভেঙ্গে পড়ছিল উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতাল। তখন ছিল পবিত্র রমজান মাস সেই দিন সন্ধ্যায় প্রায় দুই থেকে তিনশো শিল্পি,কলা কুশলি,সাংবাদিক সহ সবাইকে ইফতারের ব্যবস্থা করেছিলেন রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং রিজেন্ট হাস পাতালের মালিক মোঃ শাহেদ তাজিনের হাসপাতালের কোন বিলতো নেননি বরং নিজ খরচায় তাজিনের লাশের গোসল করিয়ে কাফন পরানো এবং সারারাতের জন্য ফ্রিজিং এ্যাম্বুলেন্স এর বাবস্থা ছাড়াও পরেরদিন গাজিপুরের কাশিমপুর কারাগারে তাজিনের মাকে শেষ দেখা করানোর সব উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

এরপরের ঘটনায় আসি, এইতো কয়েক সপ্তাহ আগের কথা সারাদেশ যখন ডেঙ্গু মহামারীতে আক্রান্ত ঠিক তখন একটি ঘোষণা দিল হাসপাতালটির উত্তরা ও মিরপুর শাখা বিনা মূল্যে ডেঙ্গু আক্রান্তদের সকল পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা মিলবে।
ফ্রিতে ডেঙ্গু রোগীর সব ধরনের টেস্ট ও চিকিৎসা করবে রিজেন্ট হাসপাতাল। হাসাতালটির উত্তরা ও মিরপুর শাখা থেকে মিলবে এ সেবা।
রোববার (২৮ জুলাই) রাতে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানান রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. শাহেদ।
ফেসবুকে দেয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, রিজেন্ট হাসপাতাল উত্তরা বা মিরপুর শাখায় কোনো ডেঙ্গু রোগী আসলে ফ্রিতে ডেঙ্গু টেস্ট করা হবে। চিকিৎসার জন্য কোনো টাকা লাগবে না। কেউ ডেঙ্গু হয়েছে বা জ্বর, জ্বর লাগছে এরকম মনে হলে রিজেন্ট হসপিটাল হট লাইন অথবা আমাকে ইনবক্স এ নক করুন। রিজেন্ট হাসপাতাল এর চিকিৎসা কর্মী পৌঁছে যাবে আপনার বাসায়।

About Shariful Islam Khan

Check Also

প্রয়াত সাংবাদিক গোলাম সারোয়ার-শাহ আলমগীর স্মরণ সভা ৩ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদন ঃবালাদেশে যতদিন সাংবাদিকতা থাকবে ততোদিন গোলাম সারওয়ার-শাহ আলমগীর থাকবেন, যতদিন বার্তা সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *