Breaking News
Home / চলচ্চিত্র / বলিউডে বক্স অফিসে ব্যর্থ, কিন্তু কাল্ট ক্লাসিক সিনেমা!

বলিউডে বক্স অফিসে ব্যর্থ, কিন্তু কাল্ট ক্লাসিক সিনেমা!

অনলাইন ডেস্কঃ বলিউডে শুরু থেকে অজস্র সফল ক্লাসিক সিনেমা নির্মিত হয়েছে। আবার কিছু সিনেমা প্রশংসিত হলেও দর্শক সেভাবে গ্রহন করেনি। আজ লিখবো তেমনই কয়েকটি কাল্ট ক্লাসিক সিনেমা, যেগুলো সেভাবে সফল না হলেও কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে।

কাগজ কে ফুল 

গুরু দত্ত এবং ওয়াহিদা রেহমানের অভিনয় সমৃদ্ধ সিনেমা। যখন ওয়াহিদা রেহমানের সঙ্গে গুরু দত্তের প্রেমের গুঞ্জন চলছিল, তখনই নিন্দুকদের ওপর এক প্রকার জিদ করেই ওয়াহিদা রেহমানকে নিয়ে এই ছবির ঘোষনা দেন। ছবির কাহিনীও তাদের জীবনের সঙ্গে যথেষ্ট মিলে যায়। এক বিবাহিত স্বনামধন্য পরিচালক, যিনি সবসময় একাকীত্বে ভোগেন,এক সাধারন মেয়েকে নামকরা অভিনেত্রী বানান। পরে সেই মেয়েটি পরিচালকের প্রেমে পড়ে যায়।

ছবিটির ট্রাজিক পরিসমাপ্তি দর্শক মেনে নিতে পারেনি । আর সিনেমাটিও ছিল অতি মাত্রায় ধীরগতির। ফলাফল বক্স অফিস ডিজাস্টার। ছবির অসফলতায় গুরু দত্ত প্রচন্ড ভেঙ্গে পড়েন। ছবির গল্পে যেমন ওয়াহিদা রেহমান তার সংসার বাঁচাতে দূরে সরে যান এবং ছবির শেষে ওনার করুণ মৃত্যু ঘটে, তেমনি বাস্তবেও একই ঘটনা ঘটে। ওয়াহিদা রেহমান সরে গেলে তার স্ত্রী কন্ঠশিল্পী গীতা দত্তও ওনাকে ছেড়ে চলে যান। হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে অতিরিক্ত মদের সঙ্গে ঘুমের ওষধ মিশিয়ে খেয়ে উনি আত্মহত্যা করেন। বলিউড হারায় এক প্রতিভাধর অভিনেতা পরিচালককে। এটিই ছিলো গুরু দত্তের শেষ সিনেমা।

মেরা নাম জোকার 

এটি বলিউডের সেরা ক্লাসিকগুলোর একটি। রাজ কাপুরের অন্যতম সেরা কাজ। এটি ছিলো রাজ কাপুরের স্বপ্নের প্রজেক্ট। বিশাল বাজেটের সিনেমাটি রাজ কাপুরের জীবনের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত। এটি নির্মান করতে ছয় বছর লেগে যায় এবং রাজ কাপুর তার সব অর্থ এটার পেছনে লগ্নি করেন। ছবিটি ঋষি কাপুরের প্রথম সিনেমা। প্রথম সিনেমাতেই টিনএজ রোলে অসাধারন অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার জয় করেন। আরো অভিনয় করেন ধর্মেন্দ্র, রাজেন্দ্র কুমার, মনোজ কুমার, দারা সিং, সিমি গারেওয়াল, পদ্মিনী। সাথে ছিলো একঝাক রাশিয়ান সার্কাসে কাজ করা শিল্পী।

ছবির গল্প এক জোকারকে নিয়ে। যে কিনা যে কোনো পরিস্থিতিতে তার কষ্ট লুকিয়ে সকলকে আনন্দ দেয়। ছবিতে ব্যাবহৃত সংলাপ The Show Must Go On বলিউডের অনুপ্রেরণামূলক ক্লাসিক সংলাপ হিসেবে বিবেচিত। ছবির গানগুলো ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়। তবে চার ঘন্টা পনের মিনিটের এই ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রচন্ড আর্থিক দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়েন তখন রাজ কাপুর। ববি দিয়ে অবশ্য নিজেকে আবার আগের জায়গায় নিয়ে যান। তবে স্বপ্নের ছবি এভাবে অসফল হওয়াতে ভেঙ্গে পড়েন রাজ কাপুর। ফলে বলতে গেলে অভিমানেই রাজ কাপুর আর কখনোই নায়ক হয়ে পর্দায় আসেন নি। পরবর্তিতে এটি কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা পায়। যদিও আশির দশকে এটি পুনরায় মুক্তি দিলে ব্লকবাষ্টার হয়।

এই ছবির জন্য রাজ কাপুর সেরা পরিচালক, মান্না দে সেরা কন্ঠশিল্পী, শঙ্কর জয়কিশান সেরা সঙ্গীত পরিচালক এবং রাধূ কর্মকার সেরা সিনেমাটোগ্রাফারের ফিল্মফেয়ার জয় করেন। রাজ কাপুরের প্রিয় সিনেমা এটি । সবার জন্য মাষ্ট ওয়াচ ।

আম্রপালি

ঐতিহাসিক ছবি। বৈজয়ন্তীমালার অসাধারন অভিনয় এবং নাচসমৃদ্ধ সিনেমা। সাথে ছিলেন সুনীল দত্ত। গানগুলোও ছিল অসাধারন ক্লাসিকাল ঘরানার। ঐতিহাসিক চরিত্র নর্তকী আম্রপালির চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেন বৈজয়ন্তীমালা। ছবিটি নিয়ে অনেক আশাবাদী ছিলেন তিনি। তবে বক্স অফিসে সফল না হওয়ায় অভিমানে অভিনয় থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নেন। ছবিটি বিদেশী ভাষার ছবি হিসেবে অস্কারে নির্বাচিত হয়, তবে কোনো মনোনয়ন পায়নি।

পাকিজা

এটি যদিও সিলভার জুবিলী হিট সিনেমা। কিন্তু প্রথমে এটি দর্শক মোটেও গ্রহন করেনি। অনেক হল থেকে নামিয়েও ফেলেছিলো। মীনা কুমারীর মৃত্যুতে এটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় চলে আসে। এটি মীনা কুমারীর অন্যতম সেরা অভিনয় সমৃদ্ধ সিনেমা। আরো অভিনয় করেছেন রাজ কুমার এবং অশোক কুমার। এটি নির্মানে প্রায় ষোলো বছর লেগে যায়। 1956 তে মহরত হয়ে এটি মুক্তি পায় 1972 এ। মাঝখানে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিলো।

ছবিটির পরিচালক ছিলেন মীনা কুমারীর স্বামী কমল আমরোহী। সে সময়ের নামী পরিচালক। মীনা কুমারী এবং কমল আমরোহী দুজনেই তখন আলাদা থাকতেন। মীনা কুমারী স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদে হতাশায় এ্যালকোহলিক হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত মদ্যপানে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হন। তবুও কমল আমরোহী এই ছবিতে মীনা কুমারী ছাড়া অন্য কাউকে ভাবতে পারেন নি। তাই অসুস্থ মীনা কুমারীকে নিয়েই 1969 সালে নতুন করে শুটিং শুরু করেন। প্রথমে সাদাকালো ফরম্যাটে ইচ্ছে থাকলেও তখন কালার ফরম্যাটের চল শুরু হওয়ায় রঙ্গিন ফরম্যাটেই নির্মান করেন এবং এটা ছিলো বলিউডের প্রথম সিনেমাস্কোপ ফরম্যাট সিনেমা।

প্রচন্ড অসুস্থ অবস্থায় মীনা কুমারী শুটিং করেন। ‘তেরে নাজার’ গানে নাচার মতো অবস্থায় না থাকার কারণে মীনা কুমারীর হয়ে ঘোমটা টেনে শুট করেন পদ্মা খান্না। মিউজিকে ছিলেন গুলাম মুহম্মদ। উনি শুটিং চলাকালীন মারা যান। কমল আমরোহীকে অনেকেই মিউজিক নতুন করে করার পরামর্শ দেন। কারণ তখন নতুন ঘরানার মিউজিক চলে এসেছিলো। কিন্তু কমল আমরোহী একজন মৃত ব্যাক্তির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না জানিয়ে পুরনো মিউজিকই রাখেন। গানগুলো এখনও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।

অসাধারন সেট, মীনা কুমারীর দুর্দান্ত অভিনয়, কালজয়ী সঙ্গীত এবং কমল আমরোহীর অসাধারন মেকিং ছবিটিকে কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা দিয়েছে।

জাগতে রাহো

রাজ কাপুরের আরেকটি সেরা কাজ জাগতে রাহো। ছবিটি ভাগ্যান্বেশনে শহরে আসা অসহায়, পিপাসার্ত এক যুবকের এক রাতের গল্প, যে কিনা পিপাসার্ত অবস্থায় পানি পান করতে গিয়ে চোর সন্দেহে এক বহুতল ভবনে আটকা পড়েন। সারাটি রাত চলে তার বাঁচার জন্য সংগ্রাম। বাঁচার জন্য যেখানে গিয়েছেন, সেখানেই শহরের নির্মম বাস্তবতা এবং শহুরে চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কালো অধ্যায়ের মুখোমুখি হয়েছেন। আবিষ্কার করেন মুখোশের আড়ালে মানুষের আসল রুপ। গ্রামের সহজ সরল যুবক শহুরে এসব অনৈতিক ব্যাপার দেখে অবাক হয়।

রাজ কাপুরের অনবদ্য অভিনয়ে ছবিটি ক্লাসিক ছবি হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ছবিটি বাংলা এবং হিন্দি দু ভাষায় নির্মান করা হয়। বাংলাটির নাম ছিল ‘একদিন রাত্রে’। বাংলা ছবিটি সেরা ছবি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং হিন্দি ছবিটি বিদেশী উৎসবে সেরা বিদেশী ছবি হিসেবে পুরস্কৃত হয়। ভারতে ছবিটি বিলো এভারেজ ব্যাবসা করলেও দেশের বাইরে ব্লকবাষ্টার হয়।

ছবির শেষ দৃশ্যে একটি গানে নার্গিস অভিনয় করেন। এটাই ছিলো লিজেন্ডারী জুটির শেষ কাজ। ছবিটি মুভি লাভারদের জন্য মাষ্ট ওয়াচ ফিল্ম।

তিসরি কসম

রাজ কাপুর এবং ওয়াহিদা রেহমানের অনিন্দ্য কাজ। একজন গাড়িয়াল এবং যাত্রাপালার নর্তকীর প্রেম। যদিও দুজনার কেউই সেটা মুখ ফুটে বলে না। ছবিটি প্রযোজনা করেন রাজ কাপুরের মিউজিক্যাল টিমের নামজাদা গীতিকার শৈলেন্দ্র।
অসাধারন নির্মান, রাজ কাপুর ওয়াহিদা রেহমানের মাষ্টারক্লাস অভিনয় সত্বেও ছবিটি ছবিটি ব্যাবসায়িকভাবে মার খায়। শৈলেন্দ্র মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সন্মুখীন হন। যার ফলে হতাশায় মদে আসক্ত হয়ে পড়েন। ফলে বলিউড হারায় আরেকটি রত্নকে। যদিও ছবিটি সেরা ছবি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। গানগুলোও হয়েছিলো ভীষন জনপ্রিয়। ‘গাইড’ এর পর ওয়াহিদা রেহমানের প্রিয় সিনেমা তিসরি কসম।

সিলসিলা

যশ চোপড়ার অন্যতম সেরা কাজ। সেসময় অমিতাভ বচ্চন এবং রেখার প্রেমের গুঞ্জন চর্চিত চারিদিকে। এমন সময় অমিতাভ, জয়া ভাদুড়ী এবং রেখাকে নিয়ে নির্মান করলেন সিলসিলা। ছবির গল্পও পরকীয়া প্রেম নিয়ে। ছবির গানগুলো দারুণ জনপ্রিয় হয়। যদিও বক্স অফিসে ফ্লপ ছিল, পরবর্তিতে এটি কাল্ট ক্লাসিক এবং যশ চোপড়ার অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ছবিটি মুক্তির পর অমিতাভ-জয়ার সংসারে ঝড় নেমে আসে। ছবির গল্প যেন অমিতাভ-রেখার পরকীয়ার গুঞ্জনকে আরো উস্কে দেয়। যার ফলে অমিতাভ রেখাকে কখনোই আর স্ক্রিন শেয়ার করতে দেখা যায়নি।

অমর

মেহবুব খানের অন্যতম সেরা কাজ। অভিনয়ে ছিলেন দিলীপ কুমার, মধূবালা, নিম্মি। ছবিতে দিলীপ কুমার একজন আইনজীবী এবং মধূবালার সঙ্গে প্রেম এবং বিয়ে ঠিক হয়ে আছে। একরাত্রে নিজেকে বাঁচাতে অসহায় নিম্মি তার বাড়িতে আশ্রয় নিলে দিলীপ কুমার তাকে রেপ করেন।

ছবিতে দিলীপ কুমারের দারুন অভিনয় মুগ্ধতা ছড়িয়েছিলো। মধূবালার অনন্য সৌন্দর্য্য, নিম্মির সহজাত অভিনয়, নওশাদের টাচি মিউজিক ছবিটিকে আলোচনায় নিয়ে আসলেও ব্যাবসা করতে ব্যর্থ হয়।

সাদমা

শ্রীদেবী এবং কমল হাসানের অনবদ্য কাজ। শ্রীদেবীর ক্যারিয়ারের সব থেকে সেরা চরিত্র। ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন শ্রীদেবী। একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ের চরিত্রে অসাধারন অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন শ্রীদেবী। কমল হাসানও তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন। শেষ দৃশ্যে কমল হাসানের অভিনয় যে কারো চোখে জল এনে দেবে।

সওদাগর

নরেন্দ্রনাথ মিত্রের লেখা ‘রস’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় এই সিনেমা। ছবির গল্পে অমিতাভ একজন গুড় ব্যাবসায়ী। তিনি শীতকালে গ্রাম্য হাটে গুড় বিক্রি করেন। বয়স্ক, বিধবা নূতন এর হাতে বানানো গুড় সবচেয়ে বেশী প্রসিদ্ধ। অমিতাভ প্রতি বছর নূতন এর কাছ থেকেই গুড় বানিয়ে বিক্রি করে। ফলে তার গুড়ই হাটে সবথেকে বেশী বিক্রি হয়। এমন সময় অন্য একটি মেয়েকে দেখে ভালোবেসে ফেলেন অমিতাভ। কিন্তু মেয়েটির বাবা অতিমাত্রায় পণ দাবী করলে প্রেমে অন্ধ অমিতাভ সিদ্ধান্ত নেন তিনি তার থেকে বয়স্কা, বিধবা নূতনকে বিয়ে করবেন। ফলে ওনাকে আর গুড় বানানোতে অতিরিক্ত মজুরী দিতে হবেনা এবং সেই অতিরিক্ত জমানো টাকা দিয়ে পণ শোধ করে তিনি তার পছন্দের মানুষকে ঘরে তুলবেন। তার আগে গুড়ের মরশুম শেষ হলেই যে কোনো একটা অপবাদ দিয়ে নূতনকে তালাক দিয়ে দেবেন। এবং সেটাই করেন তিনি।

এমনি এক গল্পের অসাধারন সিনেমা সওদাগর। আনন্দ সিনেমার পরে অমিতাভ বচ্চনের আরেকটি সেনসিটিভ পারফর্মেন্স। অসাধারন ছিল ওনার অভিনয়। আর নূতন, তিনি তো যে চরিত্রেই কাজ করেন, মনে হয় যেন চরিত্রটি ওনার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা খান্নার অভিনয়ও দারুণ ছিল। ছবিটি বিদেশী ভাষার ছবি হিসেবে অস্কারে নির্বাচিত হলেও কোনো মনোনয়ন পায়নি।

উমরাও জান

রেখা, ফারুক শেখ এবং নাসিরুদ্দীন শাহ অভিনীত সিনেমা। রেখার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ। নাচের মুদ্রা, অভিনয় সব ক্ষেত্রেই নিজেকে অনন্য করেছেন এ সিনেমায়। গানগুলোও ছিল সুন্দর। পরবর্তিতে এই সিনেমা রিমেক হয়। রেখার চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সেটিও ছিলো অসফল। তবে আগেরটির মতো প্রশংসিত হয়নি।

লামহে

যশ চোপড়ার আরেকটি ক্লাসিক। যশ চোপড়ার সেরা কাজ হিসেবে বিবেচিত। এটি যশ চোপড়ার সবচেয়ে প্রিয় সিনেমা। ভিন্নধারার এই রোমান্টিক সিনেমাটি বোদ্ধাদের দ্বারা প্রচুর প্রশংসিত হয়। দ্বৈত চরিত্রে শ্রীদেবীর আরেকটি সেরা কাজ। ছবির গল্পে অনিল কাপুর ভালোবাসেন শ্রীদেবীকে। কিন্তু শ্রীদেবীর অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়ে যায়। এক এক্সিডেন্টে এক মেয়ে রেখে দুজনেই মারা যান। মেয়েটি বড় হয় এবং ঘটনাক্রমে শ্রীদেবীর সেই মেয়ে, যে কিনা শ্রীদেবীরই হুবুহু চেহারা পেয়েছে, সে প্রেমে পড়ে অনিল কাপুরের। অনিল পড়েন মহা বিপদে। যে মেয়ের মাকে তিনি মনপ্রান দিয়ে ভালোবাসেন তার মেয়েকে কীভাবে ভালোবাসতে পারেন?

ছবিটি ভারতে ফ্লপ হলেও দেশের বাইরে চুটিয়ে ব্যাবসা করে।

আন্দাজ আপনা আপনা

অনেক তো সিরিয়াস ক্লাসিক নিয়ে আলোচনা হলো। এবার একটু হাসুন। কমেডি দিয়েও যে কাল্ট ক্লাসিকের স্বীকৃতি পাওয়া যায়, তার প্রমান রাজকুমার সন্তোষীর এই সিনেমা।

ছবির কাহিনীর সাথে কাউকে পরিচয় করিয়ে দেবার কোনো প্রয়োজন দেখছি না। কারণ সবারই এই সিনেমা দেখা। ছবিতে আমির খান, সালমান খানের কমেডি ছিলো এককথায় অনবদ্য। সাথে ছিলেন ক্রাইম মাষ্টার গোগো শক্তি কাপুর। উফ! কি কমেডিই না দেখিয়েছেন সবাই মিলে। ‘আপ পুরুষ হি নেহী, মহাপুরুষ হ্যায়, উইমা, আইলা।’ এইসব সংলাপ আজো শুনলে বা দেখলে হেসে খুন হয় সবাই। কারিশমা কাপুর এবং রাভিনা ট্যান্ডন ছিলেন পারফেক্ট। পরেশ রাওয়ালও কম যান না। দ্বৈত চরিত্রে তিনিও কম হাসান নি।

এতো কিছুর পরেও ছবিটি ব্যাবসাসফল ছিল না। পরবর্তীতে এটি কাল্ট ক্লাসিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

এরকম আরো অনেক সিনেমা আছে, যেগুলো ভালো সিনেমা হওয়া সত্যেও দর্শকের ভালোবাসা পেতে ব্যর্থ হয়। যারা এখনও এই ক্লাসিকগুলো দেখেন নি, তারা সময় করে অবশ্যই দেখবেন। ভালো লাগবেই।

About Shariful Islam Khan

Check Also

অমিতাভের ছেলেমেয়ে ৩ হাজার কোটির সম্পত্তি সমান ভাগ পাবে

নিজের সব সম্পত্তি ছেলে অভিষেক বচ্চন ও মেয়ে শ্বেতা বচ্চন নন্দার মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *