Breaking News
Home / নিউজপেপার / ৯ম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত হাইকোর্টের

৯ম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত হাইকোর্টের

৯ম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদের স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত হওয়ায় ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বললেন শীর্ষ সাংবাদিক নেতারা

নিজস্ব প্রতিনিধি : ৯ম ওয়েজবোর্ডের রোয়েদাদের গেজেট প্রকাশের ওপর দুই মাসের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) দিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দেয়ায় ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করেন সাংবাদিক নেতারা।

মঙ্গলবার যুক্ত বিবৃতিতে নেতারা বলেন, আদালত ‘সাংবাদিক ছাড়া গণমাধ্যম মালিকরা অস্তিত্বহীন’ বলে যে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তা সংবাদপত্র শিল্প ও সাংবাদিকতার মর্যাদাকে সুনিশ্চিত করেছে। ইতিহাসে আদালতের এই অভিমত স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ওয়েজবোর্ড সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির আহবায়ক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং কমিটির সব সদস্য তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, তথ্য সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ দিয়ে আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন সাংবাদিক তারা ।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার মোজাম্মেল হক, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, সংবাদপত্র কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মতিউর রহমান তালুকদার, মহাসচিব খায়রুল ইসলাম, ফেডারেল ইউনিয়ন অব নিউজপেপার প্রেস ওয়ার্কার্সের সভাপতি আলমগীর হোসেন খান ও মহাসচিব কামালউদ্দিন বিবৃতিতে আইনি বাধা আর না থাকায় দ্রুত ৯ম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদের ঘোষণা দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ জানান।

সাংবাদিক নেতারা লেন, ওয়েজবোর্ড একটি আইন। গত প্রায় ৩০ বছর ধরে ওয়েজবোর্ডের বিধি-বিধান অনুসরণ করেই সংবাদপত্র শিল্পের বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু নোয়াবের আবির্ভাবের পর থেকেই এই শিল্পে ক্রমাগতভাবে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। কোনো কোনো ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলে নোয়াবকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করছে, সেটাও ভেবে দেখার সময় এসেছে।

নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সাম্প্রতিককালে দেখা যাচ্ছে, নোয়াব তাদের মিটিং-মিছিলে সাংবাদিকদের ব্যবহার করছে। অথচ নোয়াব হচ্ছে শতভাগ মালিকদের সংগঠন। এখানে সাংবাদিকদের অংশগ্রহণ কিংবা ভূমিকা রাখার কোনো সুযোগ নেই। পেশাদার সাংবাদিকদের যেমন আছে ইউনিয়ন, তেমনি সম্পাদকদের সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ (বিএসপি), নোয়াব নয়। কিন্তু নোয়াব অনেক খ্যাতিমান সাংবাদিক ও সম্পাদকদের তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থে ব্যবহার করছে, যা ভাড়া খাটানোর সামিল।
সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতি আহবান জানিয়ে সাংবাদিক নেতারা আরো বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখুন, গণমাধ্যমের মালিকানার আড়ালে থেকে কারা রাতারাতি বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক হচ্ছেন। কারা কি উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত।’

সরকারকে সতর্ক করে তারা বলেন, গণমাধ্যমকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে বর্তমানে একটি মাফিয়া চক্র গড়ে উঠছে। সাংবাদিকদের অনাথ-অসহায় করতে পারলে এক সময় সরকারকে জিম্মি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করবে এই চক্র । গণমাধ্যমের ব্যবসা করতে হলে দেশের প্রচলিত আইন মেনেই করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন সাংবাদিক নেতারা।

সরকারকে সংসদের আগামী অধিবেশনে গণমাধ্যমকর্মী আইন পাসের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ওই আইন পাস হলে সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিক শ্রমিক কর্মচারীদের জীবন-জীবিকার যেমন নিশ্চয়তা থাকবে, তেমনি মালিকপক্ষও লাভবান হবে। দেশের গণমাধ্যমে স্বস্তি ফিরে আসবে। তারা অবিলম্বে ৯ম ওয়েজবোর্ডের রোয়েদাদের গেজেট প্রকাশের দাবি জানান।

About Shariful Islam Khan

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *