Home / আর্টিক্যাল / সাউথ এশিয়া জার্নালে মনোজ জোসির প্রতিবেদন ‘কাশ্মির ও ৩৭০: সাংবিধানিক ক্যু ও সুদীর্ঘ পরিণতি’

সাউথ এশিয়া জার্নালে মনোজ জোসির প্রতিবেদন ‘কাশ্মির ও ৩৭০: সাংবিধানিক ক্যু ও সুদীর্ঘ পরিণতি’

 টরন্টো থেকে : একটি জনপ্রিয় মতামত সাময়িকভাবে দাবিয়ে রাখা সম্ভব, কিন্তু ভাবিত রাজ্যের ক্ষেত্রে তা কি সুদীর্ঘ শান্তি বয়ে আনবে? কেন্দ্রের প্রস্তাবিত পন্থায় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদটি প্রত্যাহার করে এবং জম্মু ও কাশ্মীরের মর্যাদা রাজ্য থেকে ‘ইউনিয়ন টেরিটরি’ বানানোটা সাংবিধানিক ক্যু বৈকি! এটা বিস্ময়কর এবং তা আবার নয়। এমনটাই কাশ্মীরের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রকাশ পেয়েছে।

সেটা লিখেছেন শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ভারত গড়ায় নিবেদিত ‘অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন’, সংক্ষেপে ‘ওআরএফ’-এর ফেলো এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্পর্কিত, বিশেষত সিয়াচেন, পাকিস্তান, চীন, শ্রীলঙ্কা, কাশ্মীর ও পাঞ্জাবের সন্ত্রাস বিষয়ে অভিজ্ঞ সাংবাদিক মনোজ জোসি। গত ৬ আগস্ট নিবন্ধটি প্রকাশ পায়, যার শিরোনাম- ‘কাশ্মীর অ্যান্ড ৩৭০: কনস্টিটিউশনাল ক্যু হুজ আফটাইফেক্টস উইল লিঙ্গার এ লং লাইম’, বা সাংবিধানিক ক্যু যার পরিণতি সুদীর্ঘ।
এতে মনোজ জোসি আরো লিখেছেন, এই পরস্পরবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গীটি ব্যাখ্যা করা যায় এই ভাবে: প্রাতিষ্ঠানিক দর্শন মতে বিজেপি ও তার ভূতপূর্ব সংগঠন এই সত্যটি কখনো লুকায়নি যে তারা সংবিধানের অনুচ্ছেদটি রদ করবে। ফলে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। কিন্তু এটা এমন এক পদক্ষেপ যার ফলাফল ভারতের ভেতরে ও বাইরে অপেক্ষমান। ধারণা করা হচ্ছে, সরকার তার পদক্ষেপের আগেই পরিণতিটি ভেবেছে। এটা এতোটাই অগণতান্ত্রিক গভীর পদক্ষেপ যে তা শাসিতের মতামত ব্যতিরেকেই গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ও আর্মি দিয়ে জনপ্রিয় মতামতকে একটা সময় পর্যন্ত দাবিয়ে রাখা যায়, তা কি আদৌ দীর্ঘমেয়াদী শান্তি বয়ে আনে। এটা এতোটাই বিব্রতকর যে সরকারি যুক্তিতে কাশ্মীরি মতামতকে দাবানো হয়েছে, তা দেশের অন্য যে কোনো অংশের উপরই আরোপ হতে পারে।

আর এভাবেই জোসি লিখেছেন, ৩৭০ অনুচ্ছেদটি অন্তসারশূণ্য হলেও কাশ্মীরের অনন্য বৈশিষ্ট্য ধরে রাখায় ভারতের পরিকল্পনারই ঐতিহ্য। যদিও তা ক্লীববিশেষ্য, কিন্তু তা কাশ্মীরের জন্য অত্যুৎজ্জ্বল পরিচিতি। এখন অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদি তা উপড়ে ফেলেছেন, তার তাৎক্ষণিক মনস্তাত্ত্বিক পরিণতি দৃশ্যমান না হলেও রাজনীতিকে সুদীর্ঘকাল করে তুলবে অশান্ত।
ভারতের সঙ্গে কাশ্মীর অর্ন্তভুক্তির আইনগত দিকটি বাস্তবিকই জটিল। সাংবিধানিভাবে সেটির অপসারণ সন্দেহজনক, কেননা রাষ্ট্রপতি ৩৭০ অনুচ্ছেদটি খর্ব করতে পারেন এবং উপধারা ৩ মোতাবেক তা তিনি করতেই পারেন, যদি সেটা রাজ্যসভা কর্তৃক সুপারিশযুক্ত হয়, কিন্তু তা ১৯৫৬ সালেই বিলুপ্ত করা হয়েছে। তাই এই উপধারাটি যে কোনো উপায়ান্তরে সন্তুষ্টিপূর্ণ হতে হবে। সন্দেহ নেই, শীঘ্রই সুপ্রিম কোর্টে সে বিষয়ে আবেদন জমা পড়বে।

আন্তর্জাতিকভাবেও তা ইস্যুতে পরিণত হবে। পৃথিবীতে কোনো দেশই কাশ্মিরকে ভারতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। তাদের দৃষ্টিতে তা একটি বিতর্কিত ভূখ-, যার সমাধান কেবল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার আলোচনায় সম্ভব। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, ১৯৪৮ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘে গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই রাজ্যের চূড়ান্ত পরিণতির বিষয়টি জনগণের উপরই নির্ভরশীল। আর পর্যায়ক্রমিক নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে ভারতের এমন দৃষ্টিভঙ্গীটিও কেউ মূল্যায়ণ কানাডা।
সে কারণে অনেক নাটকীয় রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাঝে তা কেবলই অন্ধকারে স্মিত হাসিতুল্য, সম্ভবত তার প্রণেতারাও জানেন। কিন্তু রাজনীতি নিয়ে তারা যেভাবে খেলছেন সেখানে ‘জয়-পরাজয়’ বলে কিছু নেই। এতে তাদের আকাঙ্খা অতীতে ফিরে গিয়ে ভারতের রাজনীতিকে উল্টে ফেলার অপচেষ্টা মাত্র। আর হ্যা, বিক্ষোভের মতো বিপর্যয়ের জন্য তারাই দায়ী থাকবেন, হয়তো জ্ঞানশূণ্য চিত্তে যারা জুয়া খেলায় নেমেছেন। ভেবেছেন, নির্বাচনি আসনে বাহবা পাবেন, সেটাই প্রত্যাশা, তাতে কেবলই সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরাই এগিয়ে আসবেন।

লেখক ঃ মোহাম্মদ আলী বোখারীা, কানাডা।

About Shariful Islam Khan

Check Also

মিডিয়া ও গণতন্ত্র : জাকারিয়া চৌধুরী

ঢাকাঃ আধুনিক বিশ্বে সংবাদ মাধ্যমের উৎপত্তি ঘটে মানব ইতিহাসে ছাপাখানা, কাগজ ও বেতারের আগমনে। এর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *